Wednesday, 19 June 2013

বারাসাতের ধর্ষণ

    বারাসাতের ধর্ষণ-কাণ্ডের পর কিছু মানুষে জবাব খুঁজছে। জবাব যে কিছু মানুষে খুঁজছে এটা ভালো জিনিষ। রাজনৈতিক নেতারা (প্রজাতান্ত্রিক ভাবে মনোনীত প্রতিনিধিরা), যেরকম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের বিরোধী দলের সদস্য বলেছেন। অনেক প্রতিবাদকারীরা, এই মন্তব্যের পূর্বেই, সমাজে অপরাধ বেড়ে চলার কারণ শাসক দলের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
    আমার ব্যক্তিগত মতে, সমাজের এই অপরাধের কারণ উপর থেকে জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পরছে, তা নয়। বরং বেশীর ভাগ মানুষই অপরাধী -- ধর্ষণকারী, স্লীলতাহাণীকারী, ঘুষখোর, ইত্যাদি। এবং আমাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা সেই সমাজ এর থেকেই মনোনীত হয়েছে, ফলে তারা সেই সব ইচ্ছারই প্রতীক।
    রাজনৈতিক নেতাদের দোষ না দিয়ে সমাজের নিজেদেরকে দোষ দেওয়া উচিত। এক অতি সৎ ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হলেও, সে সমাজের উন্নতি করতে অক্ষম হবে যদি সাধারণ মানুষ অপরাধী হয়, যেটা বেশীর ভাগ সাধারণ মানুষই।
    তবে, রাজনৈতিক নেতাদের একটা দায়িত্ব নিশ্চই আছে। এবং আমাদের বর্তমান নেতারা নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতন পালন করতে পারেনি বলে সাধারণ মানুষের তাদের আগামী নির্বাচনে আরেকবার মনোনয়ন করা উচিত নয়। কিন্তু মানুষ কী চায়, তা আগামী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত জানা যাবে না। এটা বলাও বৃথা যে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়। সেই অপরাধেও অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষ। এবং তাদের যথেষ্ট সম্মতি না থাকলে, এই জালিয়াতি করাও সম্ভব নয়।
    সমাজ হিসেবে, কেবল পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত-ই নয়, সমস্ত পৃথিবীতেই অপরাধের পিছনের কারণ এই যে বেশীর ভাগ মানুষই অপরাধী। লেখা বাহুল্য, এই সব মত-ই ব্যক্তিগত, এবং তা সত্য হিসেবে প্রচার করা আমার উদ্দেশ্য নয়।

No comments:

Post a Comment

মন্তব্য করুন